Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: গভর্নর

 


ভূমিকা:

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন যে, দেশ থেকে ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। এই উদ্বেগজনক তথ্য দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সুশাসনের প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি জানান, এই পাচারের ঘটনা তদন্তাধীন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পাচারের পরিমাণ ও উৎস:

গভর্নর মনসুরের মতে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের ঘটনায় চট্টগ্রামভিত্তিক একটি গ্রুপ জড়িত থাকতে পারে। তিনি বলেন, "শুধু চট্টগ্রামভিত্তিক একটি গ্রুপই ২০ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে।" 

রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ ও তদন্ত:

এই অর্থ পাচারের ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গভর্নর জানান, "আমরা টাস্কফোর্স গঠন করেছি। বিদেশিরা কাজ করছে। পাচারকারীদের অর্থ ফিরিয়ে আনব। আমাদের দেশের বাইরের আদালতেও জিততে হবে।" 

রেমিট্যান্স ও ডলার বাজারের অস্থিরতা:

গভর্নর মনসুর আরও উল্লেখ করেন যে, সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স সরাসরি বাংলাদেশে না এসে দুবাই হয়ে আসছে। একটি অসাধু চক্র সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স কিনে মজুত করছে এবং বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে। এতে দেশের ডলারের বাজার অস্থির হয়ে পড়ছে। 

ব্যাংকগুলোর প্রতি আহ্বান:

গভর্নর ব্যাংকগুলোর প্রতি আহ্বান জানান যে, "দেশের সাথে আপনারা (ব্যাংক) এই কাজটি করবেন না। যদি বড় কোনো দায় পরিশোধের প্রয়োজন হয়, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আসুন। আমরা ডলারের ব্যবস্থা করে দেব। বিদেশি চক্রের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে ডলার কিনবেন না।" 

প্রবাসীদের ভূমিকা:

গভর্নর প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, "দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে বিদেশিদের ব্যাপক সহায়তা পাচ্ছি। আমরা আইনজীবী নিয়োগ করছি। তবে টাকা পাচারকারীদের বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য দিয়ে প্রবাসীরা সহায়তা করতে পারেন।" 

উপসংহার:

বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের ঘটনা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক এই সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রবাসীদের সহায়তা এবং ব্যাংকগুলোর সচেতনতা এই প্রচেষ্টাকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Post a Comment

0 Comments