১ মে ২০২৫ |
স্থান: ঢাকা
সারাংশ:
মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “শ্রমিক উন্নয়ন ছাড়া নতুন বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়।”
তিনি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলে শ্রমিকদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, “যেখানে শ্রমিকের মর্যাদা নেই, সেখানে টেকসই উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না।”
তিনি শ্রমিক অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বক্তার প্রেক্ষাপট:
প্রধান উপদেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক কল্যাণ, মানব উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছেন।
এই বক্তব্যটি ছিল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জাতীয় মে দিবস’ সম্মেলনের মূল প্রবন্ধের অংশ।
প্রধান বক্তব্য:
শ্রমিক উন্নয়নের গুরুত্ব:
তিনি বলেন, “শ্রমিকরা শুধু অর্থনীতির চালিকাশক্তি নয়, বরং দেশের রক্তস্রোত। তাদের সম্মান, অধিকার ও ন্যায্যতা ছাড়া আমরা কোনোদিন উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাতে পারব না।”
ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তা:
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিটি কর্মস্থলে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি।
সামাজিক নিরাপত্তা:
তিনি সরকারকে অনুরোধ করেন শ্রমিকদের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন ব্যবস্থা এবং বেকারত্ব ভাতা চালুর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।
শ্রম খাতের বাস্তবতা:
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৭ কোটির বেশি মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে শ্রমজীবী শ্রেণিভুক্ত।
তাদের বড় একটি অংশ গার্মেন্টস, নির্মাণ, কৃষি ও সেবাখাতে কর্মরত।
তবে অধিকাংশ শ্রমিক এখনো শ্রম আইনের পূর্ণ সুবিধা পান না এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশে কাজ করেন।
নতুন অর্থনীতিতে শ্রমিকের ভূমিকা:
দেশ ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে শ্রমিকদের স্কিল উন্নয়ন ছাড়া উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষা ও রিস্ক স্কিলিং জরুরি।”
সরকার ও বেসরকারি খাতের ভূমিকা:
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে শ্রমিকদের কল্যাণে বিনিয়োগ বাড়বে।
নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদও দেন তিনি।
সমঝোতা ও নীতিগত সংহতি:
প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“শ্রমিক-মালিক-সরকার এই ত্রিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে শ্রমিক আন্দোলন নয়, বরং শ্রমিক নীতি তৈরি করতে হবে।”
উপসংহার:
প্রধান উপদেষ্টার ভাষ্য শ্রমিকদের মর্যাদা ও উন্নয়নের প্রতি একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা প্রকাশ করে।
একটি সুষম, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে শ্রমিক উন্নয়নকে কেন্দ্রীয় কৌশল হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
অন্যথায় উন্নয়নের পরিসংখ্যান অর্থহীন থেকে যাবে।


0 Comments