কুষ্টিয়ার মিরপুরে একটি বেদনাদায়ক এবং নিন্দনীয় ঘটনায় ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে একজন প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ব্যক্তি জমির (৫০), যিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের মিটন মন্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং জাসদের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদল আমলা ইউনিয়নের সভাপতি অনিক মাহমুদ পূর্ব শত্রুতার জেরে জমিরকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করেন, যার ফলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৩০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রামের মসজিদের কাছে জমিরকে একাধিকজন মিলে দেশীয় অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করেও জমিরকে বাঁচাতে পারেননি—সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত জমিরের পরিবার ও গ্রামবাসীদের দাবি, এ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং পূর্ব বিরোধ রয়েছে। জমির দীর্ঘদিন ধরে জাসদ-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একজন পরিচিত প্রবীণ কর্মী ছিলেন। অপরদিকে অভিযুক্ত অনিক মাহমুদ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। পারস্পরিক মতভেদ এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাই হয়তো এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের কারণ হয়ে উঠেছে বলে অনেকে মনে করছেন।
এ ঘটনায় মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে, তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার হয়নি, তবে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
এই হত্যাকাণ্ডটি মিরপুরসহ সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা এবং দলীয় বিরোধের একটি প্রতিচ্ছবি। একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী, যিনি কোনোরকম সহিংসতায় যুক্ত নন, তাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা — এটি শুধু একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহিংসতা নয়, বরং সমগ্র সমাজের প্রতি হুমকি। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বগুলো এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, প্রতিপক্ষকে শারীরিকভাবে নিঃশেষ করা একটি চালু কৌশলে পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয় জনগণ এই ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেছে। অনেকেই বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন আইনের হাত থেকে পার পেয়ে না যায়। পাশাপাশি তারা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উপসংহার
মিরপুরের এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, রাজনৈতিক মতভেদ কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না—তা রূপ নিচ্ছে প্রাণঘাতী সহিংসতায়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন হত্যাকাণ্ড শুধু আইনের শাসনের প্রতি অবমাননাই নয়, এটি গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নষ্ট করে দেয়। এখন প্রয়োজন, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, রাজনৈতিক প্রভাব উপেক্ষা করে দ্রুত বিচার ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, যাতে এমন ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

0 Comments