Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

বাবর রিজওয়ান আফ্রিদিকে ছাড়াই বাংলাদেশে আসছে পাকিস্তান


 পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল আগামী ২০ জুলাই ২০২৫ থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসছে। তবে এই সিরিজে নেই পাকিস্তানের সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ তিন ক্রিকেটার—বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং শাহীন শাহ আফ্রিদি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) জানিয়েছে, এই সফরে তারা তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে চায় এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের ব্যস্ত সূচির পর পাকিস্তান দলের তারকা ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে। বাবর ও রিজওয়ান দলের নিয়মিত ওপেনার হলেও এই সিরিজে তাদের বিশ্রাম দিয়ে নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়া হবে। একইভাবে, পেস আক্রমণের নেতৃত্বে থাকা শাহীন আফ্রিদিকেও বিশ্রামে রাখা হয়েছে। এই তারকাদের অনুপস্থিতিতে পাকিস্তানের নেতৃত্ব এবং ব্যাটিং-বোলিং ইউনিট কেমন পারফর্ম করে, সেটাই এই সিরিজের মূল আকর্ষণ।

পাকিস্তানের হয়ে এই সিরিজে নেতৃত্ব দিতে পারেন শাদাব খান বা ইমাম-উল-হক, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অধিনায়কের নাম ঘোষণা করা হয়নি। স্কোয়াডে থাকবেন হায়দার আলী, সাইম আয়ুব, সালমান আলি আগা, ইহসানউল্লাহ, আব্বাস আফ্রিদি, মোহাম্মদ হারিসসহ একঝাঁক তরুণ ও প্রতিভাবান ক্রিকেটার। কোচ হিসেবে থাকছেন মাইক হেসন, যিনি সম্প্রতি পাকিস্তান দলের সঙ্গে কাজ করছেন।

এই সফরের তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ম্যাচের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০, ২২ এবং ২৪ জুলাই। প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়। সিরিজটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-এর এফটিপি সূচির অংশ নয়, বরং এটি একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার মাধ্যমে আয়োজন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এই সিরিজকে গুরুত্ব দিচ্ছে, কারণ এটি আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য একটি ভালো মঞ্চ। বাংলাদেশ দলও এই সিরিজে তরুণদের বেশি সুযোগ দেওয়ার চিন্তা করছে। লিটন দাস, নাসুম আহমেদ, তৌহিদ হৃদয়, তানজিম সাকিব, মাহমুদুল হাসান জয় এবং রিপন মণ্ডলদের মতো নতুন মুখদের দেখা যেতে পারে। এছাড়া অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে ব্যালান্স করে বাংলাদেশ দল প্রতিটি ম্যাচ জিততে চায়।

পাকিস্তানের মতো একটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে, তা-ও যখন তাদের তারকা খেলোয়াড়রা বিশ্রামে থাকেন, তখন তরুণদের নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ তৈরি হয়। পাকিস্তান বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে অনেক সমর্থক হতাশ হয়েছেন, কারণ বাবর-রিজওয়ান-আফ্রিদির মতো তারকাদের খেলা দেখতে পারা একটি আলাদা আকর্ষণ।

সব মিলিয়ে, এই বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং ভবিষ্যতের স্কোয়াড গঠনে উভয় দেশের জন্যই এক পরীক্ষা মঞ্চ। তরুণদের জন্য এটি হবে নিজেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রমাণ করার বড় সুযোগ, যা দুই দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।

Post a Comment

0 Comments