Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

হামাস যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হলে গাজাকে ‘ধুলোয় মিশিয়ে’ দেয়ার হুমকি ইসরাইলের


হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে না গেলে গাজাকে ‘ধুলোয় মিশিয়ে’ দেয়ার হুমকি ইসরাইলের

২০২৫ সালের মাঝামাঝি ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে সংঘটিত নতুন যুদ্ধবিরোধের প্রেক্ষাপটে ইসরাইল সরকার ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তরফ থেকে গাজা অঞ্চলে কঠোর হুমকি উচ্চারিত হয়েছে। ইসরাইল দাবি করেছে, যদি হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হয়, তাহলে তারা গাজাকে ‘ধুলোয় মিশিয়ে’ দেয়ার জন্য প্রস্তুত। এ ধরনের হুমকি বিশ্ববাসীকে উদ্বিগ্ন করেছে এবং গাজায় মানবিক সংকটের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত কয়েকদিনে একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছেন যে, গাজায় হামাসের অস্তিত্বের অবসান ঘটানোই ইসরাইলের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেছেন, “যুদ্ধবিরতি একমাত্র তখনই সম্ভব যখন হামাস বন্দিদের মুক্তি প্রস্তাবে সম্মতি দিবে।” এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে গাজার ওপর আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে বলে সতর্ক করেছেন।

গাজায় চলমান অবরোধ ও সামরিক অভিযানের কারণে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষ খাদ্য, ওষুধ, পানি ও বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে যে, গাজায় মানবিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা উচিত।

তবে ইসরাইলের সরকার ও সামরিক নেতৃত্ব মনে করছে, হামাসের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা বা যুদ্ধবিরতি তাদের দুর্বল করে তুলবে এবং নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি করবে। তাই তারা জোর দিয়ে বলছে, যুদ্ধবিরতি স্বীকার না করলে গাজাকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এই সংঘর্ষে গাজার বাসিন্দাদের পরিস্থিতি দিন দিন সংকটময় হচ্ছে। হাসপাতালগুলো ওষুধের অভাবে সমস্যায় পড়েছে, শিশুরা তীব্র ক্ষুধার্ত, এবং হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য স্থানান্তরিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গাজার সিভিলিয়ানদের জীবন সংকটে রয়েছে এবং তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক নেতারা এই সংকট শামিল করার জন্য মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ সাধারণ সম্পাদক ও বিভিন্ন দেশের নেতারা যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। তবে ইসরাইলের কড়া অবস্থানের কারণে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট কেবল গাজার মানবিক দুরবস্থা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্যও বিপজ্জনক। দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন গাজার অবরোধ প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক সমঝোতা।

সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, ইসরাইলের হামলা অব্যাহত রয়েছে, আর হামাসও প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ধীরে ধীরে কমছে। এই অবস্থায় গাজার সাধারণ মানুষের জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

Post a Comment

0 Comments