২০২৫ সালের ২ জুলাই, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির ১৪ জন মন্ত্রী একটি যৌথ চিঠিতে পশ্চিম তীর (ইহুদিদের ভাষায় যিহুদিয়া ও শোমরনিয়া) অবিলম্বে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন। এই চিঠিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে, ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে ইসরায়েলি আইন প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন ।
চিঠির মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা ইসরায়েলের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দাবি করেছেন যে, পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং বসতি স্থাপনকারীদের সমান নাগরিক অধিকার প্রদান করবে ।
এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক এবং ট্রাম্পের সমর্থন বর্তমানে এমন একটি সময় তৈরি করেছে, যখন এই পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব এবং নিরাপত্তার জন্য তা অপরিহার্য ।
এদিকে, আগামী ৭ জুলাই, নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের মধ্যে হোয়াইট হাউসে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে গাজা যুদ্ধবিরতি, হোস্টেজ মুক্তি এবং ইরান ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে ।
এই পরিস্থিতিতে, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ট্রাম্পের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে, পশ্চিম তীরের অধিকৃত এলাকায় বসতি স্থাপনের সুযোগ দেখতে পাচ্ছেন ।
এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে সংকুচিত করে।
এই পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা, যাতে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়।

0 Comments