Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

বিয়ের তথ্য গোপন করে এসআই নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী

 


গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী নাঈম হাছান আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের সাতমাস পর, যখন অক্টোবর ২০২৪-এ বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট উপ-পরিদর্শক (অনিরস্ত্র) ইস্যু করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, তখন তিনি নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে দাবি করে এসআই পদে নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন । এটি একটি পরিকল্পিত কৌশল ছিল বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠছে।

নাঈমের বাবা আব্দুল মোতালিব ইটনা উপজেলার আওয়ামী লীগের কার্যকরী উপদেষ্টা ও ইউনিয়ন কমিটির সহসভাপতি। বিয়ের সময় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ছাইফুল ইসলাম স্থানীয় অধিবাসীদের উপস্থিতিতে ও ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে বরযাত্রী হিসেবেও উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে নাঈমকে অবিবাহিত হিসেবে বৈবাহিক সনদ জারি করেন । এটি প্রশাসনিক অনিয়ম এবং রাজনৈতিক প্রভাবের চিত্র তুলে ধরে।

জাতীয় সূত্র মতে, এসআই পদে আবেদনের শর্ত অনুযায়ী প্রার্থীর অবিবাহিত থাকা বাধ্যতামূলক ছিল—তালাকপ্রাপ্ত বা বিবাহিত প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। ঠিক এই শর্ত ভঙ্গ করেও নাঈমের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয় । ৩০ জুন লিখিত অভিযোগ করেন শাহেদ আলীর সন্তান আব্দুর রব, তিনি পুলিশ সুপারের কাছে তথ্য গোপন ও জালিয়াতির বিষয়গুলি তুলে ধরেন

এই প্রক্রিয়ায় ইটনা থানার ওসি মো. জাফর ইকবাল–এরও দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়ার প্রশ্ন তুলেছেন। সংশ্লিষ্ট সময় একে "তথ্য না পাওয়া" হিসেবে অস্বীকার করেন, তবে অভিযোগের পর থেকে বিষয়টি তদন্তের আওতায় নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন । একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মুকিত সরকার বাজিতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর দিয়েছেন

যদি এই ঘটনা সরকারি তথ্য গোপন, নিয়োগ শর্ত ভঙ্গ ও রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে ঘটে থাকে, তবে এটি দুর্নীতিমূলক অবৈধ নিয়োগের একটি বড় উদাহরণ। এসআই পদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রয়োগকারীদের শীর্ষ পর্যায়ে প্রবেশ, যা যথাযথ যাচাই না করে দেওয়া হলে জন আস্থা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বিপন্ন হয়। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংযোগের মাধ্যমে যারা প্রভাবশালী—যেমন ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগ—তাদের জন্য এ জাতীয় অনিয়ম আরও প্রণোদনা যোগায়।

এই ঘটনাটি শুধু এক ব্যক্তির অনিয়ম নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে। চলমান বিবেচনায়, প্রমাণের ভিত্তিতে যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়; যেমন নিয়োগ বাতিল, তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি—তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কৌশল প্রতিহত হতে পারে।

সর্বশেষে, জনগণের আস্থা ফেরানোর জন্য দরকার একাধিক পদক্ষেপ—ডিজিটাল ভেরিফিকেশন, স্বতন্ত্র নিয়োগ পরিদর্শক, নিয়োগ সংক্রান্ত আপিল প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক চাপ ঝেড়ে ফেলার ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে যাত্রা করা যাক এক ন্যায়সঙ্গত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের পথে।

Post a Comment

0 Comments