Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

ভালোবাসার টানে মালয়েশিয়ান তরুণী নাজিয়া এখন নওগাঁর পুত্রবধূ, গ্রামে উৎসবের আমেজ


 নওগাঁর বদলগাছীতে প্রেমের এক অনন্য উদাহরণ ঘটেছে—ভিন্ন দেশের, ভিন্ন সংস্কৃতির দুই মানুষের মিলনে আজ পুরো গ্রাম উৎসবের আমেজে মুখরিত। মালয়েশিয়া প্রবাসী জামিল হোসেন (২৪) ও মালয়েশিয়ান তরুণী নাজিয়া বিনতে শাহরুল হিজাম (২৪) প্রথমে মালয়েশিয়ার এক শপিংমলে পরিচয়, তারপর বন্ধুত্ব, আর তিন বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রেম গড়ে ওঠে; অবশেষে তারা বিয়ে দিয়ে সেই সম্পর্কে চাঁদের ইতি টানলেন

গত ৩০ জুন তারা বাংলাদেশে এসে, ৩ জুলাই গায়ে হলুদের পর ৪ জুলাই জামিলের বাড়িতেই ইসলামিক শরীয়তের মতো আয়োজনের মধ্যে তাদের আনুষ্ঠানিক বিবাহ সম্পন্ন হয়—এতে স্থানীয়দের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো, কারণ এই ‘ভিনদেশি পুত্রবধূ’ নাজিয়া এখন নওগাঁয়ের তরুণী হিসেবে স্বাগত পাচ্ছেন

নাজিয়া জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এসে তিনি খুবই ভালো অনুভব করছেন, বিশেষ করে জামিলের পরিবার তাকে মেয়ের মতো গ্রহণ করেছে এবং গ্রামের মানুষদের আন্তরিকতা তাকে অনেকটা যেন পূর্বপরিচিত করে তুলেছে । জামিলের মা হালিমা খাতুনও বলেছেন, উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, এবং নাজিয়া তাদের পরিবারের সদস্য হয়ে উঠেছেন—তার সঙ্গে এলাকার মানুষজনও খোলামেলা আচরণ করছে

স্থানীয়রা পূর্বে দেখতে পেতেন সম্প্রচার বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বিদেশি মেয়েরা বাঙালি ছেলের প্রেমে বাংলাদেশ আসে’—তবে এবার নিজের চোখে দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছেন, মনে হয়েছে—“এমনও হয়!”–এর মতো আজ গ্রামে উৎসব, আনন্দ এবং এক নতুন সামাজিক বন্ধনের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে

মালয়েশিয়ার শহরের গতিময় জীবনের পর, গ্রামীণ সম্ভাষণ-সহ স্থানীয় খাবার ও আতিথেয়তাই নাজিয়ার মন জয় করেছে। তার ভাষায়, “মনে হচ্ছে অনেক আগে থেকেই তাদের সঙ্গে পরিচিত”—এমন অনুভূতি তার নতুন সামাজিক পাতায় নিজেকে খাপ খাওয়ানো এবং গ্রামবাসীর স্বীকৃতির প্রতিফলন

এই বিষয়টি শুধুই একটা পারিবারিক অনুষ্ঠান নয়, বরং দুই দেশের সংস্কৃতি-সংযোগের প্রতীকও বটে। ভালোবাসার টানেই দুটি দেশে স্থাপন হলো একটি নতুন পরিবার, যার প্রতিটি পদক্ষেপ এখন গ্রামে উদ্দীপনা ও অভিজ্ঞতার উৎস হিসেবে পরিণত হচ্ছে—একদিকে মানুষের মিশে যাওয়া, অন্যদিকে গ্রামীণ হাওয়ায় এক ‘বিদেশি পুত্রবধূর’ গৌরবজনক অভ্যর্থনা।

Post a Comment

0 Comments