১ জুলাই ২০২৫, ভোর রাতে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যশোর জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রাশেদ খান। নিজের পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, তিনি সংগঠনের আহ্বায়ক পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন এবং বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন, বিশেষ করে এনসিপি বা তাদের ছাত্র-যুব সংগঠনের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। রাশেদ খান লেখেন, তিনি একজন আর্টিস্ট, জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে অনেক আর্থিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে তার নামে ভুয়া "ব্যাংক ব্যালেন্স" ইস্যু তৈরি করেছে যা তার জন্য মানসিকভাবে কষ্টদায়ক।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে জেলা কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচন একটি প্রহসনমূলক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে, যেটি এনসিপি দ্বারা প্রভাবিত। রাশেদ আরও বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে সংগঠনের জেলা পর্যায়ের নেতারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না, ফলে সংগঠনের কার্যক্রম থমকে গেছে। তিনি জানান, তার অভিপ্রায় ছিল একটি সৎ ও সংগ্রামী নেতৃত্ব উপহার দেওয়া, কিন্তু বাস্তবতায় তা সম্ভব হয়নি। তার পদত্যাগে সংগঠনের অন্য সদস্যরা হতাশ হয়েছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বললেও, অনেকেই মনে করছেন এটি ছাত্র আন্দোলনের জন্য একটি বড় ধাক্কা। সময়ের সাথে ছাত্র সমাজের মাঝে যেভাবে নেতৃত্ব সংকট তৈরি হচ্ছে, রাশেদের পদত্যাগ সেই সংকটকে আরও প্রকট করেছে। বর্তমানে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই পদত্যাগ শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি ছাত্র রাজনীতির ভিতরে চলমান অন্তঃসংঘাত, বিশ্বাসের সংকট এবং আদর্শ বিচ্যুতির প্রতিচ্ছবি বলেই অনেকে মনে করছেন।

0 Comments