Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

আবু সাঈদ হত্যা মামলা : ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

 


রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি জানিয়ে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে আন্দোলনরত অবস্থায় পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। নিহত অবস্থায় সাইনবোর্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকা তার গুলিবিদ্ধ হওয়া দৃশ্যটি প্রকাশ্যে এলে, সারা দেশে বিশাল বিদ্রোহ ও “কমপ্লিট শাটডাউন” কর্মসূচির ভিড় সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পথ সুগম করে । ঐ ঘটনার এক বছরের মাথায়, ২০২৫ সালের ৩০ জুন (সোমবার) তার হত্যা সংক্রান্ত মামলায় ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ–ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে চার জন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন—বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক এসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ । বাকিরা পলাতক রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑২ সম্পৃক্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, যার মধ্যে আছেন সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার ও উপকমিশনারসহ মোট ২৬ জন পলাতক

ট্রাইব্যুনাল–২–এর বেঞ্চের নেতৃত্ব দেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, এবং প্রসিকিউশনের পক্ষে অভিযোগ দাখিল করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গাজী এম এইচ তামিম, বি এম সুলতান মাহমুদ ও এস এম মঈনুল করিম । প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্ত সংস্থা ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় এবং তা যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ জুন দাখিল করা হয় । এর পূর্বে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ১৫ জুন তদন্ত প্রতিবেদন ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন, এবং ২৬ জুন শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন

আভ্যন্তরীণ অভিযোগে বলা হয়েছে: সাবেক এসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় সরাসরি গুলিতে জড়িত ছিলেন; আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শরিফুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী সহ আরও অনেকে “সহায়তা ও উসকানি” দিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনাসমূহ ঘটিয়েছে । মামলা প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বিবৃত হয়েছে, “উর্ধ্বতন অবস্থানের” সাবেক উপাচার্য, পুলিশ কমান্ডার, প্রক্টররা যৌথভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তাদের অধীন পুলিশের সদস্যরা অস্ত্র প্রয়োগ করেন; এ ছাড়া কিছু আসামি সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত ফলে পরিবর্তনও সাধন করেছিলেন

ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে: গ্রেপ্তার চার আসামিকে হাজির করার জন্য এবং মামলার পরবর্তী শুনানি ১০ জুলাই নির্ধারিত হয়েছে । একইসাথে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার জন্য আগাম নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।

এই মামলার এমন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। এটি রাজনৈতিক–আইনগত প্রেক্ষাপটে কোটা আন্দোলনে হতাহতের আলোটা ফের অবিলম্বে এনে দিয়েছে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রেক্ষিতে উচ্চ স্তরের জবাবদিহির ফসলস্বরূপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও অভিযোগ গ্রহণের ঘটনা হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments