Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

জন্মহার বাড়াতে মরিয়া চীন সরকার, সন্তান হলেই দেয়া হ‌বে মোটা অর্থ


 চীনের জনসংখ্যাগত সংকট — বয়সভিত্তিক জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা ও গর্ভধারণের হ্রাস — মোকাবিলায় সরকারসহ বিভিন্ন স্থানীয় প্রশাসন এখন জন্মহার বাড়াতে বিরলভাবে ঋণপ্রদান ও প্রণোদনা কার্যক্রম চালু করেছে। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তে ইতোমধ্যে অন্তত ২৩টি প্রাদেশিক অঞ্চলে সন্তান জন্মানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের পদক্ষেপ দেখা গেছে । এমন উদাহরণ হিসেবে হোহহোট (অনুমানিক ৩.৬ মিলিয়ন জনসংখ্যা) শহরে প্রথম সন্তানের জন্য এককালীন ১০ ০০০ ইউয়ান, দ্বিতীয় সন্তানের জন্য প্রতি বছর ১০ ০০০ ইউয়ান (মুক্তিযোদ্ধা পাঁচ বছর পর্যন্ত) এবং তৃতীয় সন্তান অথবা তার অধিকের জন্য প্রতি বছর ১০ ০০০ ইউয়ান পর্যন্ত ১০ বছর ধরে দেয়ার ঘোষণা করেছে — যা মোট সম্ভাব্য প্রত্যেক শিশুর জন্য ১০০ ০০০ ইউয়ান পর্যন্ত হতে পারে । এই প্যাকেজের মধ্যে আছে প্রাসঙ্গিক স্বাস্থ্য–বিমা, প্রসব–পূর্ব পরীক্ষার সুযোগ, যন্ত্রপাতি–প্রশমক ব্যবস্থা, এবং মায়েদের জন্য “এক কাপ দুধ” কার্যক্রম — যা নবজাতকদের পুষ্টির জন্য বছরে এক কাপ দুধ প্রদান নিশ্চিত করে

চীনের মধ্যপ্রদেশ হুবেই-র টিয়ানমেন শহরেও ২০২৪ সালে এক নজিরবিহীন ১৭% জন্মবৃদ্ধির রিপোর্ট এসেছে , যা মূলত সরকারি অনুদান, আবাসন ভাউচার, মাতৃত্বকালীন ছুটি ভাতা ও শিশুর প্রতি মাসে নগদ অবদান (২ হাজার ইউয়ান বা তার বেশি) প্রণীত নিয়মিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসেছে । টিয়ানমেন–এ তৃতীয় সন্তানের জন্য ১৮০০০ ইউয়ানের হাউজিং ভাউচার সহ মোট সহায়তা ২২৫ ১০০ ইউয়ান পর্যন্ত পৌঁছেছে; এবং পরিবারকে জরুরি ১ ০০০ ইউয়ান মাসিক ভাতা ও ৩ ০০০ ইউয়ানের এককালীন নগদ পুরস্কারও প্রদান করা হচ্ছে

জাতীয় পর্যায়েও পদক্ষেপ চালু হয়েছে। চীনা ফিনান্স মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই এমন একটি সমন্বিত ‘শিশু-পালন ভাতা’ পরিকল্পনার খসড়া প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রত্যেক সন্তানের জন্য ৩৬০০ ইউয়ানের বার্ষিক বিকাশ ভাতা (প্রথম তিন বছর ধরে) এবং জাতীয়ভাবে ১০০ বিলিয়ন ইউয়ানের বাজেট বরাদ্দ বিবেচিত হয়েছে । CNBC’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ব্যাপক পদক্ষেপ বাণিজ্য ও ভোক্তা খাতে শক্তি প্রদান করার পাশাপাশি জন্মহার বৃদ্ধির লক্ষ্যেও নির্দিষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে

চীনশাসিত স্থানীয় প্রশাসনের এসব উদ্যোগقاء বছরে বিয়ে ও সন্তান গ্রহণ ব্যবস্থায় সাহায্য, ইন-সিটিতে নিবন্ধনসহ শুল্ক–লভ্যাদি সরলীকরণ, ও গ্রামে-বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া পরিকল্পনার মাধ্যমে জনসংখ্যা সঞ্চালনের দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে । তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন—এই ধরনের আর্থিক অনুপ্রেরণা যথেষ্ট ফলপ্রসূ না হলে তা সাময়িক সাড়া মাত্র তৈরি করতে পারে; সমাজের অবচেতন এবং সংস্কৃতিক কারণে বেশিরভাগ পরিবার অন্তত কোনো একটি সন্তানই জন্মাবে, আর এই অর্থগুলো সম্ভবত তাদের জন্মের আগ্রহেই কাজ করবে না । বিশেষ করে বৃহৎ শহর, যেমন সাংহাই ও বেঈজিং, যেখানে জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান চাপ ও নারী–পেশাগত অবকাঠামো প্রভৃতি চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি, সেসব অঞ্চলে কিছুটা অকার্যকরতার আশঙ্কাও উত্থাপিত হয়েছে

অতিরিক্তভাবে, ২০২৪ সালে চীনের জাতীয় জনসংখ্যা তিন বছর ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে; ২০২৩ সালে জন্মসংখ্যা ছিল মাত্র ৯.৫৪ মিলিয়ন, যা ২০১৬ সালের এক কোটি ৮৮ লাখের অর্ধেকেরও কম । রাষ্ট্রের ভয় এখন জনবৃদ্ধি–হ্রাস ও শ্রমশক্তির সংকটের ফলে অর্থনৈতিক ধাক্কার কাটিয়ে উঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। রাষ্ট্রপতিমণ্ডল চ্যালেঞ্জে ফলপ্রসূতা বজায় রাখার জন্য প্রণোদনাত্মক কার্যক্রম ও সামাজিক সহায়তা (যেমন শিশুদীক্ষা, নারীর কর্ম–সহজায়ন ইত্যাদি) একত্রে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে

প্রকৃতপক্ষে, বিভিন্ন শহরের উদ্দ্যেশ্যমূলক জন্মহার বৃদ্ধি প্রচেষ্টা দেখাচ্ছে এই ধরনের আর্থিক ও সামাজিক সরঞ্জাম কাজ করছে; বিশেষত টিয়ানমেন–এর মতো শহরগুলি অন্যতম প্রতিশ্রুতিদায়ক ফলাফল পেয়েছে । তবে সবার মনেই সংশয়ের বীজ বোনা আছে — বিষয়টি হলো এটি সীমিত সময়ের জন্য সাফল্যময় হতে পারে, আর দেশজুড়ে প্রয়োগ করা কঠিন, বিশেষ করে যেখানে আর্থিক বাজেট কম বা বসবাস খরচ বেশি । অতএব জন্মহার বাড়ানোর অগ্রাধিকার নির্ধারণে আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন, জীবনযাত্রার খরচ কমানো ও সমন্বিত নারী–স্ফীতি সমাধানের উপরেও সচেতনতা বাড়ানো দরকার। এক্ষেত্রে চীন তার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতিগত ও নীরব নীতিগত বাধা ভেঙে সামনে এগোতে চায় — তবে এর সফলতা সময়ই নির্ধারণ করবে।

Post a Comment

0 Comments