Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

আমি ফাতিমার বাবাও নই, বয়ফ্রেন্ডও নই: আমির খান


 বলিউড মেগা‌স্টার আমির খান সম্প্রতি ফাতিমা সানা শেখের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “আমি ফাতিমার বাবাও না, বয়ফ্রেন্ডও না।” এই মন্তব্য এসেছে দীর্ঘদিন ধরে অভিনেতা ও তার কো-স্টারের মধ্যে সম্পর্কের সমালোচনার মধ্যে—যেখানে ‘দঙ্গল’ সিনেমায় বাবা–মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে দর্শকরা যেন মিশে গিয়েছিলেন চরিত্রে। সেই অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’ ছবিতে একই যুগলবন্দিকে কাস্ট করলে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন, কারণ তারা ‘বাবা ও মেয়ে’ হিসেবে এতটাই পরিচিত ছিল ফাতিমার সঙ্গে, যে কোনো রোম্যান্টিক কেমিস্ট্রি কল্পনাও ছিল অস্বাভাবিক।

নায়িকার ভূমিকা নেবার ক্ষেত্রে প্রযোজক ও পরিচালক আদিত্য চোপড়া ও বিজয় কৃষ্ণ আচার্য বলিউডের একাধিক তারকাদের প্রস্তাব দেবার পরেও যখন রাজি হতে হয় না, তখন শেষ পর্যন্ত ফাতিমার অডিশন গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির অংশবিশেষ থেকে প্রশ্ন উঠেছিল—‘দঙ্গল’-এর সেই মেয়ে এখন কি সেই মেকআপে বড়ো হয়ে বয়ফ্রেন্ডে পরিণত হলো? যদিও পরিচালকরা “ভাবি তো ছেলে-মেয়ে” কেমিস্ট্রি রপ্ত রাখতে চেয়েছিলেন, তবুও দর্শকদের মন থেকে সম্পর্কের সেই বাবা-মেয়ের মানসিকতা মুছে পাওয়া কঠিন ছিল

এ প্রসঙ্গে আমির খান গল্প ঘুড়ে বলেন, “আমি তো আসল জিবনে তাঁর বাবা না, বয়ফ্রেন্ডও না। আমরা তো একটা সিনেমা বানাচ্ছি, ব্যাস।” এই সোজাসাপটা জবাব কেবল অভিনয়-সংক্রান্ত টেবিল-ডায়লগ নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক বার্তা। যেখানে খ্যাতিমান অভিনেতার পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি সাধারণ দর্শকের আবেগ গভীর, সেখানে তিনচুল বদলালেও সম্পর্কের প্রকৃতি মিথ্যার বর্ষায় ভেসে যাওয়া জটিল। ঐতিহ্যগত “বাবা-বাচ্চার” ইমেজ থেকে “রোম্যান্স” ছবির মিথ্যাচারে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা, দর্শকদের মানসিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে; কিন্তু সেই সঙ্গে অভিনেতাদের বদলে যাওয়ার প্রতি প্রস্তুত থাকতে হয় – যেন অভিনয় আর জীবনের রাস্তায় পৃথকীরণ হয়।

দীর্ঘদিন ধরে টিভি–খবর ও সোশ্যাল মিডিয়ায় খেলা ধরেছে এমন গুঞ্জন—‘দঙ্গল’-এর সেই ভালোবাসার মিশ্রণ কি ‘থাগস’-এর রোম্যান্সে ফালতু মনে হয়নি? কিন্তু আমিরের বক্তব্য যদি খোলামেলা গ্রহণ করা হয়, তাহলে জানা যায়—একজন শিল্পী হিসেবে চরিত্রে ঠুকে দেয়ার তদ্বিরই তাঁর ফোকাস। তিনি আরও একটি উদাহরণ দিয়েছেন, অনুরূপভাবে অমিতাভ বচ্চন, ওয়াহিদা রেহমান ও রাখি পণ্ডিতের যুগলের রূপান্তরকে সামনে এনে দেখিয়েছেন যে, দর্শক ‘স্যুইচ’ গ্রহণ করতে পারে; সেই বিশ্বাস ভাঙলে অপ্রত্যাশিত এ-জেনারেশনের সৃষ্টি হবে।

এই প্রসঙ্গে একটি বড় প্রশ্ন উঠে—চরিত্রের পরিব্যাপ্তির সঙ্গে দর্শকের মনস্তত্ত্ব কতখানি জোড়া খায়? যখন একটি ‘বাবা’ চরিত্রকে সিনেমায় ‘প্রেমিক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন কেবল অভিনয়ের ইতিহাস না, বরং সমাজের নিজস্ব মূল্যবোধও বিপর্যের মুখে পড়ে। আমিরের মন্তব্য এই পরিস্থিতিকে হাল্কা করে—‘আমরা অভিনয় করছি’, কিন্তু দর্শকের দৃষ্টিকোণে একটা ইমোশনাল অ্যাচরমান্ট বা ধারণাগত গ্যাপ স্বাভাবিক ভাবেই তৈরি হয়।

অর্থাৎ, জনপ্রিয়তা ও পরিচয় ভিন্ন হয়ে গেলেও, শিল্পীর ভিউয়ারের কাছে সেই দৃঢ় প্রতিসমতা বজায় থাকে—যা চার পাশ থেকে দর্শকদের ব্যক্তিগত জীবন ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে দেয় চরিত্রকে। আমিরের সহজ ভাষায় “আমি না বাবা, না বয়ফ্রেন্ড” কথায় দেয় অসীম স্পষ্টতা—এমনকি দর্শকের আবেগ-মিশ্রনের মধ্যেও শিল্পীদের পেশাগত স্বাতন্ত্র্য বিনষ্ট করা উচিত নয়, একে শুধুই চরিত্রের একটি অংশ হিসেবে দেখাও শ্রেয়।

Post a Comment

0 Comments