বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য ২০২৫ সালের ৭৮তম কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বয়ে এনেছে।
পরিচালক আদনান আল রাজীবের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আলী’ কানের অফিশিয়াল শর্ট ফিল্ম প্রতিযোগিতা বিভাগে "Special Mention" বা বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেছে, যা বাংলাদেশের কোনো চলচ্চিত্রের জন্য এই বিভাগে প্রথমবারের মতো প্রাপ্তি।
চলচ্চিত্রের সারাংশ
১৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘আলী’ চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের উপকূলীয় এক শহরের পটভূমিতে নির্মিত, যেখানে নারীদের গান গাওয়া নিষিদ্ধ। চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র আলী, একজন কিশোর, যিনি গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শহরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। আলীর গানে নারীকণ্ঠের অনুকরণ এবং তার স্বপ্নের পেছনের গল্পটি লিঙ্গবৈষম্য, সাংস্কৃতিক প্রথা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন তোলে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও প্রতিক্রিয়া
কান উৎসবের সমাপনী দিনে জার্মান পরিচালক মারেন অ্যাডে ‘আলী’ চলচ্চিত্রটির জন্য "Special Mention" ঘোষণা করেন। পুরস্কার ঘোষণার পর আদনান আল রাজীবের প্রতি উপস্থিত দর্শকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও প্রশংসা লক্ষ্য করা যায়। এই অর্জন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে। এর আগে, ২০২১ সালে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এবং ২০০২ সালে ‘মাটির ময়না’ কান উৎসবে অংশগ্রহণ করেছিল, তবে ‘আলী’ প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে অফিশিয়াল প্রতিযোগিতা বিভাগে স্বীকৃতি পেল।
নির্মাণ প্রক্রিয়া ও পেছনের গল্প
আদনান আল রাজীব, যিনি প্রায় দুই দশক ধরে বিজ্ঞাপন ও নাটক নির্মাণে যুক্ত, ‘আলী’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণের জন্য সিলেটের বিভিন্ন লোকেশনে টানা পাঁচ দিন শুটিং করেন। চলচ্চিত্রটির পোস্ট-প্রোডাকশন কাজ ফিলিপাইনে সম্পন্ন হয়, যেখানে সহ-প্রযোজক হিসেবে ফিলিপাইনের একটি টিম যুক্ত ছিল।
আদনান জানান, “যাঁরা চুপ থাকেন, যাঁরা নানা চাপে কথা বলেন না, ‘আলী’ তাঁদের উৎসর্গ করছি। আমাদের সিনেমাটি মূলত কণ্ঠস্বর জাগ্রত করা নিয়েই।”
শিল্পী ও অভিনয়
চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আল-আমিন, যিনি আলীর ভূমিকায় তার অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। তার পারফরম্যান্স চলচ্চিত্রটির আবেগ ও বার্তা পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
🇧🇩 জাতীয় প্রতিক্রিয়া ও শুভেচ্ছা
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই ‘আলী’ চলচ্চিত্রটির এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়েছেন। ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। শাবাশ! আদনান ও টিম ‘আলী’।”
ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা
‘আলী’ চলচ্চিত্রটির এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহ জোগাবে বলে আশা করা যায়।

0 Comments