মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বড় সুরুন্ডী তালতলা এলাকায় বৃহস্পতিবার (১২ জুন ২০২৫) সকাল বেলায় দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী চিত্র। রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় ব্যানারের বাইরে এসে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন রাস্তা সংস্কারের কাজে। দীর্ঘদিন যাবত চলাচলের অনুপযোগী একটি ভাঙাচোরা রাস্তা এদিন পুনরায় চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয় সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সংস্কার করে এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এ উদ্যোগ।
সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ
এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামীর মানিকগঞ্জ জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য এবং পৌর শাখার আমীর হুমায়ুন কবীর। তার সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধুমাত্র একটি রাস্তা সংস্কার নয়, বরং এই কাজের মাধ্যমে তারা সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, ইতিবাচক চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক সচেতনতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
হুমায়ুন কবীর বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে বড় সুরুন্ডী তালতলা এলাকার এই রাস্তা জনসাধারণের চলাচলের অযোগ্য ছিল। বিশেষ করে বর্ষাকালে এটি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতো। আমাদের নেতা-কর্মীরা নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই এই রাস্তাটি স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করেছেন। এতে এলাকাবাসী উপকৃত হবেন।”
তিনি আরও জানান, এটি একটি চলমান কর্মসূচির অংশ। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার অন্যান্য জরাজীর্ণ সড়কও ধাপে ধাপে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সংস্কার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহুদিন ধরে তালতলা এলাকার এই রাস্তার বেহাল দশা চলছিল। চলাফেরায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিলো। বিশেষ করে রাতের বেলায় পথ চলা হয়ে উঠতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারতো না।
এলাকাবাসী বলেন,
“এতদিন আমরা কাউকে পাশে পাইনি। অবশেষে জামায়াতে ইসলামীর তরফ থেকে যে রকমভাবে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে রাস্তা সংস্কার করা হলো, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা কৃতজ্ঞ।”
নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ
এই উদ্যোগে অংশ নেন পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের জামায়াত নেতারা। উপস্থিত ছিলেন ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, আবু তালহা, এবং আরও অনেকে। তারা বলেন,
“আমরা রাজনীতির বাইরে গিয়েও সমাজের জন্য কাজ করতে চাই। এটা আমাদের কর্তব্য।”
নেতারা জানান, তরুণ প্রজন্মের মাঝে সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধ জাগিয়ে তুলতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। এর মাধ্যমে রাজনীতি মানবসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুনভাবে উপস্থাপিত হতে পারে।
সামাজিক বার্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই কর্মসূচি কেবল একটি রাস্তা মেরামতের কার্যক্রম নয়, এটি একটি বার্তা – সমাজের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে।
হুমায়ুন কবীর বলেন,
“আমরা চাই রাজনীতি শুধু বক্তৃতা কিংবা মিছিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানে ব্যবহার হোক। এটা আমাদের বিশ্বাস।”
জামায়াতের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রশংসা ও সামাজিক মিডিয়ায় আলোড়ন
এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই পোস্টে মন্তব্য করেন, “এই ধরনের উদ্যোগই রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।” কেউ কেউ আবার এটিকে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক নেতাদের জন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
উপসংহার
আজকের দিনে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে বিভেদ, হিংসা এবং সংঘাতের খবর আমাদের প্রতিনিয়ত হতাশ করে, তখন জামায়াতে ইসলামীর মানিকগঞ্জ পৌর কমিটির এই উদ্যোগ এক টুকরো আশার আলো। এটি প্রমাণ করে, ইচ্ছা থাকলে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়েও সমাজের জন্য কাজ করা সম্ভব।

0 Comments