টলিউডের অন্যতম আলোচিত জুটি ছিলেন যশ দাশগুপ্ত ও নুসরাত জাহান। পর্দার বাইরে এই দুজনের সম্পর্ক নিয়ে যেমন গুঞ্জন ছিল, তেমনি ছিল মানুষের কৌতূহল। একসঙ্গে সিনেমা করা থেকে শুরু করে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যন্ত—তাদের সম্পর্কের প্রতিটি ধাপ টলিপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। তবে সময়ের আবর্তনে সেই সম্পর্কেই দেখা দিয়েছে ফাটল। সূত্র বলছে, গত এক বছর ধরেই আলাদা থাকছেন যশ ও নুসরাত।
প্রেমের শুরুটা কীভাবে?
নুসরাত ও যশের সম্পর্কের শুরু হয় ২০২০ সালের দিকে। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তখন নুসরাতের তুরস্কে হওয়া বিয়ে আইনি বৈধতা নিয়ে বিতর্কে ছিল। এরই মাঝে যশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরকে সময় দেওয়া—সব মিলিয়ে জনমনে তৈরি হয় প্রেমের গুঞ্জন।
এরপরেই এক সাক্ষাৎকারে নুসরাত জানান, তার তুরস্কে হওয়া বিয়ে আইনত বৈধ নয়, তিনি ‘সিঙ্গেল’। সেই বক্তব্যে একপ্রকার বৈধতা পায় যশ-নুসরাতের সম্পর্ক।
সন্তান জন্ম ও পিতৃত্ব
২০২১ সালের আগস্টে মা হন নুসরাত। সন্তানের নাম রাখেন ঈশান। তবে পিতৃত্ব নিয়ে জল্পনা চলতে থাকে। অবশেষে ঈশানের জন্মসনদে পিতার নাম হিসেবে যশ দাশগুপ্তের নাম থাকায় সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা একভাবে প্রতিষ্ঠা পায়।
যশ-নুসরাতকে একসঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যেত। ছেলের জন্মদিন উদ্যাপন, পারিবারিক ছুটি, প্রফেশনাল ফটোশুট—সব জায়গাতেই তারা ছিলেন একে অপরের ছায়াসঙ্গী। যশ ছিলেন দায়িত্বশীল বাবা, আর নুসরাতও সম্পর্ককে গভীরভাবে গুরুত্ব দিতেন বলে মনে করা হতো।
তবে হঠাৎ কী হলো?
২০২4 সালের মাঝামাঝি থেকেই মিডিয়ায় গুঞ্জন উঠতে শুরু করে—যশ ও নুসরাতের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আর এখন তা একপ্রকার নিশ্চিত—তারা গত এক বছর ধরে আলাদা থাকছেন। একাধিক সংবাদমাধ্যম ও ঘনিষ্ঠ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আলাদা থাকার কিছু লক্ষণ:
তারা একে অপরের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ছবি বা পোস্ট শেয়ার করছেন না।
ঈশানের সাম্প্রতিক জন্মদিন উদ্যাপনেও যশ ছিলেন অনুপস্থিত।
নুসরাত এখন নিজেই ঈশানের দেখাশোনা করছেন বলে জানা যায়।
বিভিন্ন পাবলিক ইভেন্টে তারা একে অপরকে এড়িয়ে চলছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নীরবতা
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক সময় যশ-নুসরাত একে অপরের ছবিতে মন্তব্য করতেন, ভালোবাসার ইঙ্গিত দিতেন। এখন সে জায়গায় এসেছে সম্পূর্ণ নীরবতা। দুজনের অ্যাকাউন্টে নেই একে অপরের ছবি, নেই কোনো ইঙ্গিতপূর্ণ স্টোরি বা পোস্ট। যা বর্তমানে তারকাদের বিচ্ছেদের অন্যতম লক্ষণ হিসেবেই ধরে নেওয়া হয়।
ঘনিষ্ঠ সূত্র যা বলছে
টলিপাড়ার ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে:
“দুজনের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়েছিল ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত সময় ভাগ করা নিয়ে। একে অপরকে সময় না দিতে পারা, পেশাগত ব্যস্ততা এবং কিছু পারিবারিক মতভেদ ধীরে ধীরে সম্পর্ককে দুর্বল করে তোলে। তবে তাঁরা এখনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করছেন।”
সূত্র আরও জানায়, যশ বর্তমানে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে খুব ব্যস্ত। রাজনীতির ময়দানেও নিজের জায়গা গড়তে চাইছেন তিনি। অন্যদিকে, নুসরাত নিজেকে পুরোপুরি সন্তান ঈশানের দায়িত্ব ও মিডিয়া প্রজেক্টে ব্যস্ত রেখেছেন।
নুসরাত ও যশ—কি বলছেন তারা?
যদিও এই নিয়ে কেউই সরাসরি মুখ খুলেননি, তবে কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া গেছে।
নুসরাত এক সাক্ষাৎকারে বলেন:
“জীবনের প্রতিটি ধাপে নিজেকে নতুনভাবে গড়তে হয়। কিছু মানুষ পাশে থাকে, কিছু সময়ের সাথে চলে যায়। আমি এখন ঈশানকে নিয়েই আমার জীবন গড়ছি।”
যশ বলেছিলেন:
“ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমি কথা বলতে পছন্দ করি না। আমার জন্য এখন ক্যারিয়ার আর দায়িত্বটাই সবচেয়ে বড়।”
এই বক্তব্য থেকেই সম্পর্কের ফাঁটল স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঈশান—যার কেন্দ্রেই এখন সবকিছু
যশ-নুসরাতের সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল তাঁদের সন্তান ঈশান। এখন এই ছোট্ট শিশুটি আছে নুসরাতের কাছে। ইনস্টাগ্রামে মাঝে মাঝে ঈশানকে নিয়ে সময় কাটানোর ছবি দেন নুসরাত। মা হিসেবে নিজের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করছেন তিনি।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—যদি বিচ্ছেদ হয়েই থাকে, তাহলে ঈশানের অভিভাবকত্ব কীভাবে ভাগ হবে? যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।
ক্যারিয়ার কি প্রভাব ফেলেছে?
নুসরাত এখন নতুন কিছু চলচ্চিত্র প্রজেক্টে ব্যস্ত। তিনি নিজের ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও প্রযোজনা সংস্থাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে, যশ বর্তমানে বিজেপি রাজনীতিতে যুক্ত এবং সময় দিচ্ছেন পরবর্তী নির্বাচনের প্রচার-প্রসারে।
এমনও মত রয়েছে যে, রাজনীতিতে যশের সক্রিয়তা এবং মিডিয়ার চাপ সম্পর্ককে আরও দুর্বল করেছে।
তাহলে, বিচ্ছেদ কি নিশ্চিত?
এখনো পর্যন্ত তারা আইনি বিচ্ছেদ ঘোষণা করেননি। তবে আলাদা থাকা, একে অপরের বিষয়ে নীরবতা এবং সন্তানের দায়িত্বে একক মনোযোগ—সবই বিচ্ছেদের পূর্বাভাস বলে মনে করছেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় সেলিব্রিটিরা সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখতে চাইলেও পেশাগত চাপ, মিডিয়ার কড়া নজর ও ব্যক্তিগত চাহিদার সংঘাতে সম্পর্ক ভেঙে যায়।
শেষ কথা
যশ ও নুসরাতের সম্পর্ক ছিল টলিউডের আলোচিত প্রেমকাহিনি। প্রেম, সন্তান, সংসার—সবই ছিল এই গল্পে। তবে সময়ের ধাক্কায় সেই সম্পর্কেই আজ এসেছে দুরত্ব।
তবে ভালোবাসা যদি গভীর হয়, তাহলে ভবিষ্যতে হয়তো দেখা যেতে পারে নতুন মোড়। আবার হয়তো এটাই চূড়ান্ত পরিণতি।
আমরা কেবল প্রার্থনা করতে পারি—ঈশান যেন ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও স্নেহে বেড়ে ওঠে, এবং যশ-নুসরাত দুজনেই যেন জীবনের নতুন অধ্যায়ে শান্তি ও সাফল্য খুঁজে পান।

0 Comments