Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

পরীমনির রুমে মদের আড্ডা – গৃহকর্মীর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

 


ভূমিকা:

বাংলাদেশের বিনোদন জগতের আলোচিত ও বিতর্কিত অভিনেত্রী পরীমনি আবারও নতুন করে খবরের শিরোনামে। এবার আলোচনার কেন্দ্রে পরীমনির নিজ বাসভবন। সম্প্রতি তার গৃহকর্মীর এক বিস্ফোরক বক্তব্যে জানা গেছে, পরীমনির নিজস্ব কক্ষে প্রায়ই মদের আড্ডা বসত, যা ঘরের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।


ঘটনার সূত্রপাত:

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে পরীমনির গৃহকর্মী, যার নাম পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে, একটি সাক্ষাৎকারে জানান "আপা রুমে বসেই মদের আড্ডা দিতেন। ওখানে মাঝে মাঝে বাইরের লোকজনও আসতেন। আমাগো কাজ করতে কষ্ট হইতো। অনেক দিন এসব সহ্য করছি।" – এই বক্তব্য শোনার পর নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।


 পরীমনির অতীত ও বিতর্কিত জীবন:

পরীমনি বহুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কখনও চলচ্চিত্রে সাহসী অভিনয়, কখনও সামাজিক ইস্যুতে সরব অবস্থান, আবার কখনও তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই জন্ম দিয়েছে বিতর্কের। ২০২১ সালের আলোচিত মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাভোগের অভিজ্ঞতা তার জীবনকে আরও জটিল করে তোলে।


 গৃহকর্মীর অভিযোগের বিবরণ:

গৃহকর্মী তার বিবৃতিতে আরও জানান:

রুমে প্রায়ই মদের বোতল, গ্লাস, এবং আড্ডার সরঞ্জাম পাওয়া যেত

অনেক রাতে অতিথিরা এসে উচ্চস্বরে গান-বাজনা ও পার্টি করত

গৃহকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকত এবং কখনও-কখনও অশোভন আচরণ করা হতো

পরীমনি নিজেই মাঝে মাঝে রেগে গিয়ে গৃহকর্মীদের তাড়িয়ে দিতেন

এই বক্তব্যের কোনও প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে না আসলেও, এটি অনেকের দৃষ্টিতে পরীমনির জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।


 মিডিয়া ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া:

এই ঘটনার খবর প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুক, ইউটিউব ও টুইটারসহ নানা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই সমালোচনার সুরে মন্তব্য করেন –
"তারকারা যেমন জীবনের আলোয় থাকেন, তেমনি ছায়ার দিকেও তাকাতে হয়।"

অন্যদিকে, কিছু অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা পরীমনির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, "এটা তার ব্যক্তিগত জীবন। একপাক্ষিক বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে দোষী করা ঠিক নয়।"


 আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে কি?

এই অভিযোগের পর প্রশ্ন উঠছে, এটি কি আবারো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে পড়বে? পূর্বে তার বাসা থেকেই অবৈধ মদ ও সুরা উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এই নতুন অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে পরীমনির জন্য এটি হতে পারে আরও একটি আইনি বিপর্যয়ের সূচনা।


 পরীমনির অবস্থান:

এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত পরীমনির সরাসরি কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সামাজিক মাধ্যমেও তিনি এ প্রসঙ্গে কিছু বলেননি। তবে, পূর্বের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী অনুমান করা হচ্ছে, তিনি হয়তো শিগগিরই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করবেন এবং গৃহকর্মীর এই বক্তব্যকে "ষড়যন্ত্র" বা "মিথ্যা অভিযোগ" হিসেবে অভিহিত করতে পারেন।


 তারকা জীবনের প্রতিফলন:

এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, তারকা জীবন যেমন বাইরের দুনিয়ায় আলোয় মোড়ানো থাকে, তেমনি অনেক সময় ব্যক্তিগত জীবনের দিক থেকে হয়ত তারা ভুগে থাকেন একাকিত্ব, হতাশা কিংবা অভ্যন্তরীণ অশান্তিতে। মদ্যপান বা আড্ডা অনেকের জন্য “স্বাভাবিক” মনে হলেও, তা যদি বারবার প্রকাশ্যে আসে, তখন তা শুধু ব্যক্তি নয়, গোটা শিল্প জগতের ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।


 উপসংহার:

পরীমনির ঘরে মদের আড্ডার অভিযোগ নিঃসন্দেহে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও এ বক্তব্য এখনও যাচাই হয়নি, তবুও এটি সমাজ, মিডিয়া ও শিল্পী সমাজে নানা প্রশ্ন তুলেছে। সত্যতা যাচাইয়ের আগ পর্যন্ত আমরা একে শুধু অভিযোগ হিসেবেই নিতে পারি। তবে তারকাদের উচিত, নিজের ব্যক্তিগত জীবনেও এমন সতর্কতা বজায় রাখা, যা তাদের পেশাগত ও সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে।

Post a Comment

0 Comments