২০২৫ সালের মে মাসের শেষ সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই লঘুচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লঘুচাপের বর্তমান অবস্থা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রভাব
লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলায় প্রভাব ফেলতে পারে। এই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া এবং জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রস্তুতি ও সতর্কতা
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকায় সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
অতীতের অভিজ্ঞতা
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি নতুন কিছু নয়। ২০১৯ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এবং ২০২০ সালের ‘আম্পান’ বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ থেকে সৃষ্টি হয়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
উপসংহার
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরবর্তী কয়েকদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

0 Comments