Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

কোরবানির হাটে সাড়া ফেলে দিয়েছে নোয়াখালীর ‘যুবরাজ’: ১০ লাখ টাকার বিশালদেহী গরু


 বাংলাদেশে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ প্রতিবারই বিশেষ আবেগ, ধর্মীয় তাৎপর্য এবং প্রাণিসম্পদের বিশাল মিলনমেলা নিয়ে আসে। এই সময় দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার খামারি তাঁদের লালন-পালন করা গরু, ছাগল, মহিষ ও অন্যান্য কোরবানির পশু নিয়ে আসেন শহরের বড় বড় হাটে। এই হাটগুলোতে দেখা মেলে অসংখ্য গরুর, কিন্তু প্রতিবারই কিছু গরু ব্যতিক্রমী আকার ও পরিচর্যার জন্য বিশেষ নজর কাড়ে। ২০২৫ সালের কোরবানির হাটে এমনই এক আলোচিত গরু হচ্ছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার যুবরাজ


যুবরাজ: এক রাজকীয় নাম, রাজকীয় গরু

নাম শুনেই বোঝা যায়, গরুটির এক বিশেষ মর্যাদা আছে। যুবরাজ আসলে একটি দেশি জাতের গরু, যার মালিক হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের গরু খামারি মো. ছালাহউদ্দিন সেলিম। দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে অত্যন্ত যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে যুবরাজকে বড় করেছেন তিনি। খামারেই লালন-পালন করা হয়েছে এই গরুটিকে দেশীয় খাবার এবং প্রাকৃতিক উপায়ে।

যুবরাজের ওজন প্রায় ৩০ মণ (১২০০ কেজির মতো), উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট, দৈর্ঘ্য ৯ ফুটের কাছাকাছি। সুদৃঢ় পেশি, বড় মাথা, চকচকে লোম এবং শান্ত স্বভাব যুবরাজকে একটি বিশাল আকর্ষণে পরিণত করেছে।


দাম ও অফার: ১০ লাখে যুবরাজ, সাথে ফ্রি গরু!

গরুটির মালিক ছালাহউদ্দিন সেলিম জানিয়েছেন, তিনি যুবরাজের দাম হাঁকিয়েছেন ১০ লাখ টাকা। এটি শুধুমাত্র কোরবানির হাটের এক গরুর জন্যই উচ্চ মূল্য নয়, একইসাথে সেটি তার যত্ন, গঠন ও খ্যাতির প্রমাণও। চমকপ্রদ বিষয় হলো—যদি কেউ যুবরাজকে ১০ লাখ টাকায় কিনে নেয়, তাহলে তিনি অতিরিক্ত একটি ৪ মণ ওজনের গরু ফ্রি দেবেন!

এই অফার শুনেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে যুবরাজ। অনেকেই বলছেন, “যুবরাজ শুধু গরু না, যেন এক সুপারস্টার!”


যত্ন ও পরিচর্যা: রাজকীয় পরিবেশে বড় হওয়া

খামার মালিক জানান, যুবরাজের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ খাবারের তালিকা। প্রতিদিন তাকে খাওয়ানো হয় ভুসি, সুজি, চালের কুড়া, খুদের ভাত, কলা, গাজর ও মাঝে মাঝে দুধ-ছোলা। পাশাপাশি প্রাকৃতিক খাবার হিসেবে ঘাস তো রয়েছেই। কোনো রকম স্টেরয়েড বা ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি বলেই দাবি করেন তিনি।

প্রতিদিন যুবরাজের গোসল, দেহ ম্যাসাজ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা হয়। তাকে ভোরে ও বিকেলে হাটানো হয় যেন পেশি সচল থাকে। এই যত্নেই যুবরাজ হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বড় দেশি গরু।


পুরস্কারজয়ী গরু: সম্মান অর্জনও করেছে

যুবরাজ শুধু খামারের গরু নয়, সে নোয়াখালী জেলার প্রাণিসম্পদ মেলায় 'সবচেয়ে বড় গরু' হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে যুবরাজ শুধু দৈহিক গঠনে নয়, খামারিদের পরিশ্রমের সফল উদাহরণ হিসেবেও পরিচিত।


সোশ্যাল মিডিয়া ও হাটে আগ্রহ

যুবরাজের ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই ফেসবুক, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়ে গেছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানুষের মন্তব্য, শেয়ার ও প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে, যুবরাজ কোরবানির ঈদের সবচেয়ে আলোচিত গরু হতে চলেছে।

হাটে তোলার আগেই গরুটি নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। রাজধানীর গাবতলী, চট্টগ্রামের সাগরিকা কিংবা নারায়ণগঞ্জের বড় হাটগুলো যুবরাজকে তাদের হাটে নিতে চায়। অনেকে জানিয়েছেন, “এই গরু দেখতে না পারলে কোরবানির হাটে যাওয়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।”


বাংলাদেশের খামার খাতে এক সফল দৃষ্টান্ত

যুবরাজের মত গরু আমাদের দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের এক প্রতীক। এটা দেখায়, বিদেশি গরুর প্রতি নির্ভর না করে দেশীয় খামারিরাই নিজের শ্রম, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে এই ধরনের বৃহৎ ও সুস্থ পশু প্রস্তুত করতে পারেন।

এটি কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই খাত আরও বিকশিত হতে পারে এবং গরু রপ্তানির মতো উদ্যোগও সম্ভব হবে।


নিরাপত্তা ব্যবস্থা

যুবরাজ যেহেতু বহুমূল্য গরু, তাই খামারেই রাখা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, নিরাপত্তারক্ষী এবং আধুনিক খাঁচা। এছাড়া গরুটি হাটে তোলার সময় মালিক একটি বিশেষ ট্রাক ও আলাদা নিরাপত্তা দল প্রস্তুত রাখবেন।


উপসংহার

‘যুবরাজ’ এখন আর শুধুমাত্র একটি গরুর নাম নয়—এটি এক গর্ব, এক পরিচয়, এক অর্জনের গল্প। বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের সাফল্যের অনন্য উদাহরণ এটি। কোরবানির হাটে যেভাবে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, তাতে বোঝা যায় যুবরাজ নিঃসন্দেহে ২০২৫ সালের কোরবানির সেরা আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তার দাম ১০ লাখ টাকা হলেও, গরুটি যা প্রতিনিধিত্ব করে তার মূল্য অনেক বেশি। যদি দেশজুড়ে আরও এমন খামারি তৈরি হয় যারা এভাবে দেশীয় গরু লালন-পালন করেন, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এই খাতেও একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

Post a Comment

0 Comments