Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

ফরিদগঞ্জে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ৪০, আতঙ্ক


 চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ও আতঙ্কজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে একটি পাগলা কুকুর। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে অন্তত ৪০ জনকে কামড়ে আহত করেছে কুকুরটি। এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণরা রয়েছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায়।

আহতদের মধ্যে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, ব্যবসায়ী ও গৃহবধূসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।


ঘটনার শুরু: হঠাৎ তাণ্ডব চালায় পাগলা কুকুর

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত শনিবার (তারিখ উল্লেখ করা যাবে) সকাল থেকে হঠাৎ করেই একটি কুকুর উপজেলার ৪নং সুবিদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে পড়ে। প্রথম দিকে সবাই এটিকে সাধারণ কুকুর ভেবে গুরুত্ব না দিলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই এর আগ্রাসী আচরণ বুঝতে পারেন স্থানীয়রা।

শুরুতে একটি দোকানের সামনে বসে থাকা এক বৃদ্ধকে কামড়ে দেয় কুকুরটি। পরে পাশের একটি স্কুলমাঠে থাকা শিশুদের পেছনে ধাওয়া করে। যতবার লোকজন কুকুরটিকে তাড়াতে চেষ্টা করেছে, ততবারই সে আরও হিংস্র হয়ে ওঠে।


আহতদের তালিকা ও অবস্থা

এই এক কুকুরের কামড়ে একদিনে অন্তত ৪০ জন মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে:

১০ জন শিশু

৫ জন শিক্ষার্থী

৮ জন নারী

১৭ জন পুরুষ

আহতদের মধ্যে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাকিদের চাঁদপুর সদর হাসপাতালে এবং কয়েকজনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয় র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের জন্য।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান বলেন:

“আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে দ্রুত র‌্যাবিস প্রতিরোধক ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। রক্তপাতজনিত ও সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।”


আতঙ্কে বিদ্যালয় ও বাজার এলাকা

এই ঘটনার পর পরই স্কুল, কলেজ এবং মাদরাসাগুলোর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

এক অভিভাবক বলেন:

“বাচ্চারা তো খেলতে বা স্কুলে যেতে বের হয়। কিন্তু এখন এমন অবস্থা, ঘর থেকে বের করতেও ভয় লাগছে।”

অন্যদিকে, বাজারের দোকানিরা দিনের বেশির ভাগ সময় দোকানের শাটার অর্ধেক নামিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিক্রেতাদের ভাষায়, “পাগলা কুকুর কখন কোথা থেকে এসে কামড়ে দেয়, বলা যায় না। কেউ যেন আবারও এর শিকার না হয়, সেই ভয়েই সতর্ক হয়ে চলতে হচ্ছে।”


প্রশাসনের উদ্যোগ ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় যান ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী অফিসার), স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং থানা পুলিশ। ইউএনও জানান, উপজেলা প্রশাসন এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান বলেন:

“এটা খুব দুঃখজনক ও ভয়াবহ ঘটনা। এলাকাবাসীর প্রাণনাশের মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। আমরা কুকুরটিকে খোঁজার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ বিভাগকে অনুরোধ করেছি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।”

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। গত বছরও উপজেলায় একাধিক কুকুর কামড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসন কিংবা পৌরসভা দীর্ঘমেয়াদী কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়নি।


পাগলা কুকুর কেন বিপজ্জনক?

পাগলা কুকুর সাধারণত র‌্যাবিস (Rabies) ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত থাকে। এই ভাইরাস সংক্রমিত হলে কুকুরের আচরণ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। সে চেনা বা অচেনা মানুষকে হঠাৎ আক্রমণ করে বসে। কামড়ানোর পর এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে সময়মতো চিকিৎসা না করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুর কামড়ানোর পর প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা ও র‌্যাবিস ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি।


সম্ভাব্য সমাধান ও করণীয়

এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজন:

উপজেলা বা পৌরসভা পর্যায়ে নিয়মিত ভ্যাকসিনেশন ও কুকুর নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালানো।

পাগলা কুকুর শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

গণসচেতনতা তৈরি করা—কুকুর কামড়ানোর পর করণীয় বিষয়ে লিফলেট বিতরণ ও স্বাস্থ্য শিবির।

স্কুল, কলেজে সচেতনতামূলক ক্লাস চালু করা।


উপসংহার: আতঙ্ক নয়, চাই কার্যকর ব্যবস্থা

ফরিদগঞ্জে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ৪০ জন মানুষের ঘটনা আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এটি শুধু ফরিদগঞ্জের সমস্যা নয়, বাংলাদেশের অনেক গ্রাম ও শহরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের ঘটনা প্রাণহানির কারণও হতে পারে।

প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ ধরণের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

আমরা চাই, ‘ফরিদগঞ্জের ঘটনা’ যেন সতর্ক বার্তা হয়ে থাকে, নতুন কোনো আতঙ্কের জন্ম না দেয়

Post a Comment

0 Comments