‘নিজেদের সামলান, নয়তো জনগণ সামলাবে’ — কুমিল্লায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের হুঁশিয়ারি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত দুটি পথসভায় সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি দেশব্যাপী চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জনগণের ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “নিজেদের সামলান, নয়তো জনগণ সামলাবে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা জানিয়েছেন যে, জনগণের ধৈর্যের সীমানা অতিক্রম করলে এর ফলাফল দুঃখজনক হতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের নানা সমস্যা ও জনআন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষ সরকারের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তিনি এও মন্তব্য করেন যে, সরকার যদি জনগণের দাবি ও অধিকার সম্পর্কে শ্রবণশীল না হয়, তাহলে জনগণ নিজেরাই নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হবে। তিনি বলেন, “সরকারের উচিত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যাতে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।”
কুমিল্লার পথসভায় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান সরকারি নীতিমালা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন এবং বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সজাগ থাকা সময়ের দাবি। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে দেশের মানুষ ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে শান্তিপূর্ণ সমাধান আনা হয়।
ডা. শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ এবং বিবিধ। তিনি ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর সিলেট জেলার একজন চিকিৎসক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মুরারি চাঁদ কলেজ ও এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসা শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী হিসেবে তার পরিচিতি থাকলেও, রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের আমীর হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য সরকারের জন্য একটি স্পষ্ট সংকেত। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিক্ষোভ ও আন্দোলন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে। তারা বলছেন, সরকার যদি জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সংবেদনশীল না হয়, তাহলে দেশের স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে।
কুমিল্লার এই পথসভা এবং ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। এটি সরকারের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে সরকারের উচিত জনগণের দাবি মেনে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও সরকারকে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এটি দেশের জনগণের মধ্যে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, তারা তাদের অধিকার আদায়ে বেশি সক্রিয় ও সংগঠিত হতে শুরু করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশাবাদী যে, এই ধরণের সতর্কবার্তা সরকারের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুগঠিত করবে।
বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত অনিশ্চিত হলেও, এই ধরনের বক্তব্য ও গণমত সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমানের আহ্বান শোনার মাধ্যমে সরকার যদি জনগণের দাবি ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, তাহলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রবল।
সবমিলিয়ে, কুমিল্লার এই পথসভায় জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের হুঁশিয়ারি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন দিক নির্দেশ করেছে, যা সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তা এবং জনগণের জন্য অধিকার আদায়ের প্রেরণার উৎস। সরকারের উচিত এই সংকেতগুলি গ্রহণ করে সকল পক্ষের সঙ্গে সংলাপ বাড়ানো ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা।

0 Comments