Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

আশুরায় রোজা রাখার ফজিলত




আশুরায় রোজা রাখার ফজিলত

ইসলামে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়মিত ইবাদত ও নিয়মিত রোজা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা বান্দাদের নেক আমল হিসেবে গৃহীত হয়। তার মধ্যে আশুরা দিবসের রোজা এক বিশেষ স্থান অধিকার করে রেখেছে। আশুরা হিজরি বর্ষপঞ্জীর ১০তম দিন এবং এ দিনে অনেক ফজিলত ও গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর নির্দেশনা অনুযায়ী আশুরার রোজা রাখা অত্যন্ত মহৎ কর্ম হিসেবে গণ্য হয়।

আশুরার রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে যে, যিনি আশুরার রোজা রক্ষা করবেন, তার পূর্ববর্তী বছরের পাপ মাফ হয়ে যায়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) একবার জানিয়েছিলেন, “আশুরার রোজা পূর্ববর্তী বছরের জন্য ক্ষমা লাভের কারণ।” (সহিহ মুসলিম) এই পবিত্র রোজা বান্দার জন্য অতুলনীয় মাগফিরাত ও নেকির দরজা খুলে দেয়।

আশুরার রোজার ইতিহাসও ইসলাম পূর্ব যুগ থেকে এসেছে। নবী ঈসা (আঃ) এই দিনে রোজা রাখতেন এবং তার অনুসারীরাও এটা পালন করতেন। যখন নবী মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় আগমন করলেন, তখন তিনি আশুরার রোজা পালন শুরু করলেন। পরবর্তীতে তিনি উম্মতকে নির্দেশ দিলেন আশুরার রোজার সাথে আগের বা পরের দিন একটি দিন যোগ করে রোজা রাখতে যেন এটা অন্যান্য ধর্মীয় অনুশীলন থেকে আলাদা হয়। এই নির্দেশনা দিয়ে তিনি উম্মতকে খাঁটি ও স্বতন্ত্র রোজার প্রতি উৎসাহিত করেন।

আশুরার রোজা রাখা শুধু এক দিনের রোজা নয়, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পাশাপাশি নিজেকে আত্মশুদ্ধির সুযোগ দেয়। রোজাদার ইবাদতের মাধ্যমে মন ও শরীরকে পরিশুদ্ধ করা হয়, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও নির্ভরতা গড়ে ওঠে। এই দিন বিশেষভাবে কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা মেনে চলা, তওবা ও ইস্তেগফার করার মাধ্যমে একজন মুসলমান তার ঈমানকে শক্তিশালী করতে পারে।

এছাড়া, আশুরার রোজা পালন করার মাধ্যমে ইহুদী ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সাথে ইসলামের ভিন্নতা ও পৃথকতা প্রকাশ পায়, কারণ এই দিনটি ইহুদী সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হলেও, মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা পালন করে থাকেন। তাই এটি মুসলিম জাতির ঐক্যবদ্ধ ও আলাদা পরিচয় বহন করে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিচারে, রোজা রাখার মাধ্যমে আত্মসংযম শেখা যায়, যা একজন ব্যক্তি ও সমাজের জন্য কল্যাণকর। রোজাদার নিজের ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও অন্য বাসনা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নৈতিকতা ও সদাচারের শিক্ষা লাভ করে। এটি পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক এবং মানুষকে পরস্পরের প্রতি দয়ালু ও সহানুভূতিশীল করে তোলে।

সর্বশেষে, আশুরার রোজা রাখা একটি পরম নেকী এবং আল্লাহর কাছে গ্রহণীয় ইবাদত। এটি প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আহ্বান যে, এদিন রোজা রাখার মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে প্রশংসা ও রহমত লাভ করা সম্ভব। মহানবী (সা.) এর নির্দেশনায় প্রতি বছর আশুরার রোজা পালন করে নিজেদের পাপমুক্তি ও আত্মার উন্নতি সাধন করতে হবে।


আশুরার রোজার এই ফজিলত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিয়মিত ও নিবিড়ভাবে রোজা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি আমাদের নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক জীবনের উন্নয়নে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

Post a Comment

0 Comments